শেখ আলী আব্বাস
সোমবার (১৩ মার্চ) এক খবর চমকে দিয়েছিলো সবাইকে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এড. কামরুল ইসলাম একজন আসামীর জামিনের জন্য আদালতের সামনে আইনজীবী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই অভিযুক্ত আসামী আর কেউ নন স্বয়ং তারেক জিয়ার এপিএস মিয়া নুর উদ্দিন আহমেদ অপু। এই অপু শুধু তারেক জিয়ার এপিএস নন, তারেক জিয়ার অর্থ পাচার এবং বিভিন্ন অপকর্মের একজন হোতা। বাংলাদেশ থেকে যারা অর্থ পাচার করে এবং লন্ডনে তারেক জিয়াকে পাঠায় তার সমস্ত কলকাঠি নাড়ান এই অপু। আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা কীভাবে তাঁর পক্ষে আইনী লড়াইয়ে দাঁড়ান সেটা হতবাক করে দিয়েছে সবাইকে। এই সাথে বিস্ময়েরও জন্ম দেয়।
আজ জানা গেলো এড. কামরুল ইসলাম মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। উল্লেখ্য, এই ঘটনা ১৯৯০ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই সময়ে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নাটকীয়ভাবে পরাজিত হয়। জামাতের সমর্থনে সরকার গঠন করে বিএনপি। সেই সময় এরশাদের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব নেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট সিরাজুল হক। উল্লেখ্য, এডভোকেট সিরাজুল হক বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পিতা। সিরাজুল হক কেবল আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন না, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ৭৫ এর পর বঙ্গভবনে গিয়ে খুনী মোশতাককে অবৈধ শাসক বলে সিরাজুল হক বলেছিলান, ‘আমি তোমাকে রাষ্ট্রপতি মানি না।’
কিন্তু তারপরও স্বৈরাচারী এরশাদের পক্ষে আইনজীবীর দায়িত্ব গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ সিরাজুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, এরশাদের আইনজীবী হওয়ার কারণে যদি সিরাজুল হক দল থেকে বহিষ্কৃত হন তাহলে কেন কামরুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হবে না। এই প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
মামলা থেকে জানা যায়, রাজধানীর মতিঝিল থেকে ৮ কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ২০১৯ সালের ৪ জানুয়ারি বিএনপি নেতা নুর উদ্দিন অপুকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরীর মতিঝিল থানার সিটি সেন্টার থেকে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কার্য পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ মজুদ করে তা দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী আসনে পৌঁছানোর জন্য চেষ্টাকালে র্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের তত্বাবধানে র্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। এর পর হাসপাতাল থেকে মিয়া নূর উদ্দিন আহমেদ অপুকে ২০১৯ সালের ৪ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে।
Leave a Reply